আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নারায়ণগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি, জেলা পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২৮০২৫৬৭ জন মুসলমান, ১৪৪১০৫ জন হিন্দু, ৯৬৩ জন খ্রিস্টান, ৩৭৮ জন বৌদ্ধ এবং ২০৪ জন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। ধর্মহীন বা নাস্তিকদের কোন পরিসংখ্যানগত সরকারি তথ্য নেই।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-
রপ্তানী শিল্পে পাট যখন বাংলাদেশের প্রধানতম পণ্য, তখন নারায়ণগঞ্জ “প্রাচ্যের ডান্ডি” নামে খ্যাত থাকলেও বর্তমানে নিট গার্মেন্টস ও হোসিয়ারী শিল্পের জন্য সুপরিচিত। নিটওয়্যার রপ্তানীকারকদের সংগঠন “বিকেএমইএ” ও হোসিয়ারী শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রধান কার্যালয় “হোসিয়ারী সমিতি” নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
ফতুল্লা এনায়েতনগর এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ৭০০ গার্মেন্টস আছে। সারা নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় ১ হাজার রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস আছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ গার্মেন্টসই নিট গার্মেন্টস। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের তৈরী পোশাক রাজধানী ঢাকাতে ও বেশ সুনাম অর্জন করতে পেরেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি:-
নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী-বন্দর। ‘‘প্রাচ্যের ডান্ডি’’ বলে পরিচিত এ জেলা রাজধানী ঢাকা হতে মাত্র ১৬ কিঃ মিঃ দূরে এবং ঢাকা শহরের উপকন্ঠে ২৩.৩৪ ও ২৪.১৫ অক্ষাংশে এবং ৯০.২৭ ও ৯০.৫৯ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তরে নরসিংদী ও ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা, পূর্বে কুমিল্লা, পশ্চিমে ঢাকা জেলা এবং দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা।
নারায়ণগঞ্জের মধ্য দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী প্রবাহিত। পূর্ব সীমানা দিয়ে মেঘনা নদী, পশ্চিম সীমানার কিছু অঞ্চল দিয়ে বুড়িগঙ্গা এবং দক্ষিণ/পশ্চিম সীমানায় ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত। নারায়ণগঞ্জ ১৯৪৭ সালে মহকুমায় এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক এবং রেলপথ নির্মাণের পূর্বে ঢাকার সাথে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ মূলত: শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী পথেই হ’ত। জেলার আবহাওয়া মোটামুটি সমভাবাপন্ন। গরম ও শীতকালের গড় তাপমাত্রার ব্যবধান প্রায় ১৭.৫ ডিগ্রী ফাঃ। এ জেলায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমা্ণ ১৮৩ সে. মি.।
| মাটির প্রকার | বিস্তৃতি | বৈশিষ্ট্য | প্রভাব | ক্ষতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা |
|---|
| ব্রক্ষ্মপুত্রের পাললিক অঞ্চল | বৃহত্তর ময়মনসিংহ (গড়াঞ্চল ব্যতীত), জামালপুর, শেরপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার সমতল এলাকা। | পলিযুক্ত, ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর রং, এটেল বা দো-আঁশ প্রকৃতির উর্বর মাটি চুন বা ক্যালসিয়ামের ভাগ কম। পিএইচ মান ৫.৫-৬.৮ | আবহাওয়া সারা বছর মাছের অনুকূলে থাকে। কোথাও কোথাও ডুবন্ত জলজ আগাছায় চাষ ক্ষতিগস্ত হয়, যে কোন প্রজাতির মাছ চাষ করার উপযোগি। | ২-৩ বছরে একবার পুকুর শুকিয়ে তৈরি করা উচিত। নিয়মিত চুন ব্যবহার করতে হবে। |

