আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল:-
নারায়ণগঞ্জ জেলা ঢাকা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় জেলার জনসাধারণ প্রচলিত বাঙলা ভাষায় কথা বলে। তবে এ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মিশ্র/ আঞ্জলিক ভাষার ব্যবহার দেখা যায়। নারায়ণগঞ্জ সংস্কৃতি সমৃদ্ধ জেলা । প্রাচীনকাল থেক এ জেলায় জারীগান, মুরশীদী গান, ভাওয়াইয়া গানসহ আঞ্চলিক অনেক গান প্রচিলত আছে।
বেদে সংস্কৃতি
মেঘনা নদীর চঞ্চল স্রোতধারা থেকে একটি শাখানদী বেরিয়ে এসে সোনারগাঁওয়ের ভাটিবন্দর রঘুভাঙ্গা এলাকায়। এখানে নৌকার ওপর বসতি স্থাপন করেছে বেদে সম্প্রদায়। এখানে রয়েছে ১২টি বেদের নৌকা। তারা এখানে রয়েছে প্রায় এক বছর যাবৎ।
পুরনো নীতি অনুযায়ী এখনো চলছে বেদেদের বিয়ে। বিয়ের আগ মুহূর্তে বরকে গাছের মগডালে উঠিয়ে কনেকে গাছের নিচে রাখা হয়। এ সময় বর গাছের উপর থেকে চিৎকার করে কনেকে বলে আমি গাছ থেকে পড়ে মারা গেলাম। তখন কনে উচ্চৈঃস্বরে বরকে গাছ থেকে নেমে আসতে বলে। তুমি গাছ থেকে পড়ে মরে (মারা) যেও না। অমি তোমাকে সারাজীবন খেটে খাওয়াব। তখনই বর গাছ থেকে নেমে আসে।
জামদানি শাড়ী
অতীত বাংলার মসলিনের গৌরবদীপ্তের আংশিক রেশ নিয়ে আজো অনন্য। প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এ শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে। রঙ-বেরঙের সুতা আর প্রধানত প্রকৃতিনির্ভর গ্রামীন নকশায় কারুশিল্পীদের সুনিপূন হাতে নান্দনিক রুপ ও বৈচিত্রের এক অনবদ্য সৃষ্টি জামদানি। অতি সাধারন উপাদানে আমাদের কারুশিল্পীদের মনের মাধুরী মেশানো রঙের বহুবিধ ব্যবহার ও কারুকাজের সমন্বয় ঘটছে জামদানী তৈরিতে।
কালের আবর্তে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী মসলিনের উত্তরাধিকার জামদানি শিল্প স্বকীয়তার মাঝে আজো বিকশিত হচ্ছে। এখন দেশের বাজারে জামদানি পন্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জামদানি পন্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারও প্রসারিত হচ্ছে। একান্তভাবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ব্যবহারে শিল্পীদের মৌলিক শিল্পবোধ ও ধ্যান ধারনায় সৃষ্টি জামদানি। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোন দেশের কারিগরদের পক্ষে জামদানি তৈরি সম্ভব হয়নি। এ পন্যের আলাদা বৈশিষ্ট হচ্ছে, এর শিল্পীরা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই।
আদিকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকায় জামদানি কারুশিল্পীদের বংশানুক্রমিক বসবাস। জামদানি শিল্পীদের অন্যত্র নিয়ে গিয়ে এটি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
কারন এ শিল্প বংশানুক্রমিক পারিবারিক পরিমন্ডলে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে শিল্পভহবন তৈরি করেছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। তাছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর পানি থেকে ভস্মিত বাষ্প জামদানি সুতা প্রস্ত্তুত ও কাপড় বুননের জন্য অনুকূল। প্রয়োজন ও সময়ের বাস্তবতায় এ শিল্পের বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে জামদানি তাঁতিদের স্বর্নযুগের পুনঃনির্মানের উদ্যোগ গ্রহনের সচেতনতার দায়িত্ব আমাদের সবার।

