Site icon নারায়ণগঞ্জ জিলাইভ | truth alone triumphs

ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ধুলায় ভোগান্তিতে নগরবাসী বাড়ছে রোগবালাই

ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ধুলায় ভোগান্তিতে নগরবাসী বাড়ছে রোগবালাই ,শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাস ও যানবাহন চলাচলের কারণে ধুলাবালু উড়ে আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। সংস্কারকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। এতে ধুলাবালুতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাস ও যানবাহন চলাচলের কারণে ধুলাবালু উড়ে আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।

 

 

ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ধুলায় ভোগান্তিতে নগরবাসী বাড়ছে রোগবালাই

 

প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পানি না ছিটানোর কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে, নিয়মিত পানি না ছিটালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পূর্ব পাশে চানমারী এলাকায় ছয় লেন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়। এখানে প্রকল্প পরিচালকের অফিসের সঙ্গে স্ট্যাক ইয়ার্ডে বিভিন্ন রোড ডিভাইডারের ভাঙা অংশসহ

সড়ক সংস্কারকাজে ব্যবহৃত মালামাল ও যানবাহন রাখা হয়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশে প্রকল্প কাজের ব্যবহৃত ইট ভেঙে খোয়ার উঁচু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের শিবু মার্কেট থেকে চানমারী অংশে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রেখে মাঝখানের সড়কে পাথর, বালু দিয়ে সমান করার কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক সংস্কারকাজে বাতাসে ও যানবাহন চলাচলে ধুলাবালু উড়ছে। এতে আশপাশের দোকানপাট ও বাড়িঘরের ভেতরে ধুলার

আস্তরণ পড়েছে। গাছপালার রং বদলে ধুলার আস্তরণে লাল হয়ে গেছে। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের ধুলায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়মিত পানি ছিটানোর বিধান থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।ধুলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রির জন্য রাখা কাঠের আসবাবে হাত দিয়ে ধুলা দেখান চানমারী এলাকার ফার্নিচার মিউজিয়ামের ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, থাই গ্লাস বন্ধ

থাকার পরও দোকানের ভেতরে ধুলাবালু ঢুকে মালামালের ওপর আস্তর পড়েছে। প্রতিদিন চারবার করে ঝাড়ার পরও ধুলার আস্তর পড়েছে। ধুলায় মালের রং নষ্ট হচ্ছে। ইটের খোয়ার লাল ধুলায় আশপাশের সবকিছু লাল হয়ে গেছে।শাহজালাল আজমিরী ফার্নিচারের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ বলেন, দুই মাস ধরে ধুলাবালুতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এত ধুলা উড়ছে অথচ এক দিনও পানি ছিটানো হয়নি। পানি ছিটানো হলেও মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমত।রসুলবাগের বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন,

ধুলাবালুর কারণে তাঁদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। নাক বন্ধ হয়ে, ঠান্ডা–সর্দি লেগেই থাকে। বড়দের চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বাচ্চাদের।সড়ক সংস্কারকাজে ধুলাবালুতে অতিষ্ঠ হওয়ার কথা জানান ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, শরীরে ধুলার আস্তর পড়ে যায়। ধুলায় মাথার কালো চুল লাল হয়ে যায়। প্রতিদিন তিনবার করে গোসল করতে হয়। এক বেলার বেশি কাপড় পরা যায় না।ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক দিয়ে আদালতে নিয়মিত যাতায়াত করেন জজ কোর্টের আইনজীবী নুসরাত জাহান। তিনি বলেন,

ধুলাবালুতে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক ৩৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হলেও কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা করা

হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।পানি না ছিটানোর কারণে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সকে (এনডিই) সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপপরিচালক মামুন আবদুল্লাহ্। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিষ্ঠানটি মাঝেমধ্যে পানি ছিটায়। বাতাসে ধুলাবালু যাতে না ওড়ে, সে জন্য নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ধুলাবালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলাবালু একটু বেশি উড়ছে। এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে সত্যি। ট্যাংকার দিয়ে পানি ছিটানো হলেও দ্রুত তা শুকিয়ে যায়। আগামী জুনে সড়কের বিটুমিনের কাপের্টিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গেলে ধুলাবালুর এই ভোগান্তি থাকবে না বলে তিনি জানান। নিয়মিত পানি ছিটানোর বিষয়টি

তদারক করা হবে বলে তিনি জানান।তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিইর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহতাব উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

Exit mobile version